সন্ধান সর্বশেষ

৮ ফেব্রুয়ারী বরিশালে এসে যেগুলো স্থাপনা উদ্বোধন করবেন, শেখ হাসিনা

0

বরিশাল অফিসঃ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়বে গোটা বরিশাল নগরী । শেখ হাসিনা সেনা নিবাস সহ ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর ও ৩৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা সহ  বিকেল ২ টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জনসভায় ভাষন দিবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে নিরাপত্তার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ক’টি ইউনিট। প্রধানমন্ত্রীর বরিশালে আগমন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে উপস্তিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য,পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরীবিক্ষন কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি, এসময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি,এ্যাড.তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি,জেবুননেছা আফরোজ এমপি.মহানগর আওয়ামীলীগ যুগ্মসাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বরিশালে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে সফল করার লক্ষে জনসভাস্থ বঙ্গবন্ধু উদ্যান পরিদর্শন করেন নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তায় কত সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন থাকবে বিষয়টি ‘কনফিডেন্সিয়াল’ রেখে সংশ্লি পুলিশের ১ হাজার ৬৮ জন সদস্য, জেলা পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ছাড়াও বরিশালের বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ ফোর্স বরিশালে অবস্থান করবে।
এরইমধ্যে সরকারের সব ক’টি গোয়েন্দা ইউনিট মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে কঠোর নিরাপত্তার লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইউনিটগুলো। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশি¬ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রমতে, আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারী বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা স্থল সহ ৫টি স্থানে আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন কাজে ১ হাজার ৬৮ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা সহ বরিশাল শহরকে ব্যাপকভাবে নজর রাখার সিদ্বান্ত গ্রহন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসভার দিন মেডিকেল ও সিভিল সার্জন থেকে সমন্বিতভাবে ৪টি মেডিকেল টিম, ৪ টি এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা, সিটি কর্পোরেশন থেকে ৬টি পয়েন্টে ১২টি পানির ট্যাংকে ২ হাজার লিটার পানি সহ সার্কিট হাউজ ও জনসভাস্থলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ২টি জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহবান জানানো হয়েছে।
সেই সাথে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দিকে প্রতিটি এলাকায় কঠোর নজরদারী রাখা ও নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, বাসা বাড়িতে নতুন মেহমান, ভাড়াটিয়াদের প্রতি নজর রাখার জন্য প্রস্তাবনা কথায় উঠে আসে। রবিবার নগরীর বান্দরোডস্থ পুলিশ অফিসার্স মেসে মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্তে এক প্র¯ত্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্র¯ত্ততি সভায় উপস্থিত থেকে নিজ নিজ ভাবে মতামত ব্যাক্ত করেন বরিশাল (২) আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাড.তালুকদার মোঃ ইউনুস, মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ(বীর বিক্রম), বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ আবুল ফজল, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন, গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)সিইও কর্নেল জি এম শরিফুল ইসলাম, র‌্যাব-৮ এর সিইও উইং কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজিব প্রমুখ।
এসময় ডিজিএফআই এর সিইও কর্নেল শরিফুল ইসলাম তার প্রস্তাবনায় বলেন- জনসভা স্থলের আসে পাসে কোন মসজিদ, মাদ্রাসায় কোন তাবলিগ জামাতের কোন অনুষ্ঠান থাকলে তা স্থগিত করা সহ নগরীর বিভিন্ন আবসিক হোটেল, বাসা বাড়িতে আসা কোন নতুন মেহমান,ভাড়াটিয়া, দাগী জামিনপ্রাপ্ত চিহ্নত আসামীদের প্রতি নজর রাখার জন্য পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিনের প্রতি দৃষ্ঠি আকর্ষন করেন। অন্যদিকে জনসভাস্থলের পাশ্ববর্তী গ্রান্ডপার্ক হোটেলে ৮ জন বিদেশী নাগরিক ভোটার রয়েছে। তাদেরকে সকালে নাস্তা খেয়ে হোটেল ত্যাগ করার পাশাপাশি অন্যকোন ভোটার না রাখার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সেক্টরের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার কথা উলে¬খ করেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিন্নাতুন নাহার শাহানা বলেন, গত বছরের ১৫ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনে মোট ১০টি প্রকল্পের তালিকার এক নম্বরে আছে প্রকল্পটি। তিনি আরও জানান, অধিক গুরুত্ব বিবেচনা করেই দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের প্রকল্পের “শেখ হাসিনা সেনানিবাস’ কাজ খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অপরদিকে মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্টেডিয়াম এলাকা সেক্টর এলাকায় ১শত ৮৭ জন, বঙ্গবন্ধু উদ্যান জনসভাস্থলে ৩শত ২৫ জন, জনসভাস্থলের আশপাশ এলাকার ভবন, ছাদে ১শত ৭৮জন, সার্কিট হাউজ এলাকায় ১শত ৪২ জন ও ট্রফিক বিভাগের ২শত ৩৬ জন পুলিশ সদস্য ৫ সেক্টরে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে এসব কথা উঠে আসে। উল্লেখ্য আগামী বৃহস্পতিবার ৮ই জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী জণনেত্রী শেখ হাসিনা বরিশালের বাখেরগঞ্জ-পটুয়াখালীর লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনা নিবাস সহ ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর ও ৩৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা সহ বিকালে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভায় ভাষন দিবেন।

Leave A Reply