সন্ধান সর্বশেষ

বরিশালের ফেসবুক আইডি থাকবে গোয়েন্দার নজরদারীতে

0

জহির রায়হান★★ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র রাজধানীসহ সারাদেশে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই আতঙ্ক বেশি বিরাজ করছে। সারাদেশে  যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- না ঘটে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকার মেস ও আবাসিক হোটেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এমনকি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাসগুলোও নজরদারিতে রয়েছে। আগামী ৮ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের তারিখ গত ২৫ জানুয়ারি ঘোষণার দিন থেকেই নগরীর মেস ও হোটেলগুলোতে নজরদারি শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের পুলিশ সুপারদের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেসব এলকায় আগে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা করে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা। থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, পুলিশের সব সিসি টিভি ক্যামেরা সচল রাখা, টহল বা অভিযানে পুলিশ সদস্যরা একা না গিয়ে একসঙ্গে টহল দেওয়া। নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যামেরা রাখতে বলা হয়েছে। আর কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তারা ছবি তুলে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের (এআইজি-মিডিয়া এন্ড পিআর) সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘৮ফেব্রুয়ারি কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটে সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ওইদিন যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই অবনতি না হয় সেজন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গোয়েন্দা পুলিশের এক সূত্র জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া বা ফেসবুক সবসময়ই পুলিশের নজরদারি থাকে। ৮ ফেব্রুয়ারি কোনো মহল যদি সহিংসতার চেষ্টা করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। আর যেকোনো আন্দোলনে বাস-ট্রাকের মতো পরিবহনগুলো আগুনে পুড়িয়ে প্রতিবাদ করে আন্দোলনকারীরা। তবে বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের দিন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে কি-না এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যানবাহন মালিকরা। বিএনপি পচয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যেন কোনও নাশকতার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সুপারদের (এসপি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সম্প্রতি পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক করণীয় কী, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এসপিদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে পুলিশ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এই সব তথ্য জানা গেছে। বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা ইতোমধ্যে পেয়েছি। নিরাপত্তার স্বার্থে যা যা করার, তা আমরা করবো। এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। আর পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো চিঠিকে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে দেখছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এই চিঠি যাওয়ার আগেই পুলিশ সুপারদের মৌখিকভাবে নির্দেশনাও দেওয়া ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। গত রোববার ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবহন মালিকরা এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ৮ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়ার রায় পরবর্তী সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়া রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে জনগণই তা প্রতিহত করবে, আর পুলিশতো আছেই। পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী তার দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ দৃঢ়তার সঙ্গে এ কাজ করে যাচ্ছে। যাতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে সেজন্য ৮ ফেব্রুয়ারি কঠোর অবস্থানে পুলিশ থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গত রোববার সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সেদিন কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। যে আগুন সন্ত্রাস একবার শুরু হয়েছিল, সেটি আর পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) ইউসুফ আলী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সবসময় সতর্ক থাকছে।

Leave A Reply