সন্ধান সর্বশেষ

৫০ বছরেও বাড়েনি বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে টেকনোলজিস্টের পদ

0
বরিশাল অফিসঃ– বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ৫০  বছরেও বাড়েনি মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া  শেবাচিম হাসপাতাল ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি , রেডিওলজি ও রক্ত পরিসঞ্চালনসহ ৩ টি বিভাগে মাত্র ১৮ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়ে যাত্রা করলেও বর্তমানে এ বিভাগে কর্মরত রয়েছে মাত্র ১৩ জন।  অবসর ও ডেপুটেশনের কারণে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কমে যাওয়ায় রোগ নির্ণয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরতদের। বর্তমানে শেরেবাংলা মেডিকেলে প্রতিদিন গড়ে দেড় ২ হাজারের অধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  এ ৩ বিভাগে মাত্র ১৩ টেকনোলজিস্ট এবং ২০১২ সালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মহাপরিচালকের আদেশে চুক্তিভিত্তিক আরো ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাজ করছেন। অবসর ও ডেপুটেশনের মধ্যে মাইদুল ইসলাম সুমন ডেপুটেশনে ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) বরিশালে কর্মরত আছেন। শারমিন জাহান রাজশাহী আইএইচটিতে বিএসসিতে পড়াশোনা করছেন। টেকনোলজিস্ট ফেরদৌসী বেগম ডেপুটেশনে থেকে ঢাকায় ৪ বছর ধরে ট্রেনিং করছেন। নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের টেকনোলজিস্ট নাজেম তালুকদার অবসরে গেছেন। প্যাথলজি বিভাগের কর্মরত টেকনোলজিস্ট ও বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসেসিয়েশন বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার সোম জানান, প্যাথলজি বিভাগে রোগীর সংখ্যা  বেড়েছে ১০ গুণ । পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আইটেমও বেড়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি। টেকনোলজিস্টদের পদ না থাকায় আমরা রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছি। মন্ত্রণালয় যদি পদ সৃষ্টি করে তা হলে আমাদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে। রোগীদেরও  দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রির্পোট প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, শেবাচিম হাতপাতালের সব বিভাগে জনবল বাড়লেও শুধু বাড়েনি হাসপালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বিভাগের জনবল।  আমরাই একমাত্র অবহেলার মধ্যে আছি। যেমন বাড়েনি পদ, তেমনি পদ অনুযায়ী টেকনোলজিস্টও নেই। রেডিওলজি বিভাগে টেকনোলজিস্ট আছেন ৯ জন। এ বিভাগের টেকনোলজিস্ট ফেরদৌসী বেগম ডেপুটেশনে থেকে ঢাকায় ৪ বছর ধরে ট্রেনিং করছেন। এখানকার টেকনোলজিস্ট তৈয়ব আলী জানান, রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার আইটেমও বেড়েছে। একসময় সিটিস্ক্যান, এমআরআই, ডিজিটাল এক্স-রে, ক্যাথল্যাব ছিল না। কয়েক বছর ধরে তা যুক্ত করা হয়েছে। টেকনোলজিস্ট সংকট থাকায় রোগীর সেবা দিতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি মেডিকেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টেকনোলজিস্ট পদ সৃষ্টির দাবি জানান। রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে স্থায়ী পদে টেকনোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র একজন। এ বিভাগে শুরু থেকে টেকনোলিজস্ট সংকট রয়েছে।  ২৪ ঘন্টায় শিফট অনুযায়ী রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে কাজ করছে মাত্র  ৪ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।  প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ ব্যাগ রক্ত গ্রুপিং,ক্রসম্যাচিং ও স্ক্রিনিং সহ কমপক্ষে প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাধিক রোগীর পরিক্ষার জন্য কমসংখ্যক  মেডিকেল টেকনোলজিস্ট যথেষ্ট নয়। ২৪ ঘন্টা এ কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন।  পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এ বিভাগে রোগ নির্ণয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের।  এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আবুল ফজল বলেন, এই হাসপাতাল ৫০০ শয্যা থেকে ১ হাজারে উন্নিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী ভবন ও টেকনোলজিস্ট বৃদ্ধি পায়নি। ‘আমরা চাইলেই পদ বাড়াতে পারি না। আর এটি একটি টেকনিক্যাল পদ। সবাইকে দিয়ে এটা করানোও যাবে না। তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি রোগীদের সেবারমান বাড়াতে  কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদ সৃস্টি করে  ও জনবল নিয়োগের ব্যাপারটি গুরুত্বসহকারে দেখে সে ব্যাপারে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত অবহিত করবেন । 

Leave A Reply